স্যার উইলিয়াম হান্টারের ঢাকা জেলা পরিসংখ্যান বিবরণী পুস্তকে প্রফেসর ব্লকম্যানের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে যে, ১২০৩-০৪ সালের দিকে মুসলমানগণ কর্তৃক বাংলা দখল হলেও মূলতঃ আজকের বাংলাদেশ অঞ্চলসহ পূর্বাঞ্চলের এ এলাকা ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষ নাগাদ বল্লাল সেনের বংশধরগণ সম্রাট বলবনের নাতী কর্তৃক সোনারগাঁও দখল না করা পর্যন্ত শাসন করে এসেছিলেন। ১৩৩০ সালে মুহম্মদ বিন তুগলক পূর্ব বংগ দখল করেন এবং এ অঞ্চলকে তিনটি প্রদেশে ভাগ করেন। লাখানুতি, সাতগাঁও ও সোনারগাঁও। সোনারগাঁও এর গভর্ণর ছিলেন তাতার বাহরাম খান। ১৩৩৮ সালে বাহরাম খানের মৃত্যুর পর তারই অস্ত্রবাহী ফখরুদ্দিন এ অঞ্চলের ক্ষমতা দখল করে মুবারক শাহ উপাধি নিয়ে দশ বছর শাসন করেন। ১৩৫১ সালে সামসউদ্দিন ইলিয়াস শাহ এবং তার পুত্র সিকান্দার শাহ কর্তৃক সমস্ত বাংলা পুনরায় একত্রিকরণ করা হয়। সোনারগাঁও ক্ষমতাসীনদের প্রধান কেন্দ্রস্থল হওয়াতে প্রায়ই এ অঞ্চল বিভিন্ন বিদ্রোহের শিকার হয়েছিল। পরবর্তীতে সিকান্দার শাহর পুত্র আজম শাহ এর উত্তরাধিকারী হন। এরপর আজম শাহর উত্তরাধীকারীগণ রাজা খান কর্তৃক উচ্ছেদ হন। ফলে পুর্বাঞ্চলীয় জেলা সমূহ রাজা খানদের দখলে চলে যায়। কিন্তু ১৪৪৫ সালের দিকে ইলিয়াস শাহের বংশধর মাহমুদ শাহ (প্রথম) কর্তৃক বাংলা আবার একীভুত হয় এবং তিনি ১৪৮৭ সাল নাগাদ দেশ শাসন করেন। এই সময় বাংলার ঢাকা, ফরিদপুর, বাকেরগঞ্জ অঞ্চল নিয়ে জালালাবাদ এবং ফতেহবাদ প্রদেশ গঠন করা হয়। মিঃ ভিনসেন্ট স্মিথের মতে, হোসেন শাহ ১৪৯৩ হতে ১৫১৯ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত এ দেশ শাসন করেন। তিনিই শ্রেষ্ঠ এবং সবচেয়ে বেশী প্রসিদ্ধ বাংলার মুসলিম রাজা। প্রফেসর ব্লকম্যানের মতে, হোসেন শাহ প্রথমে ফতেহবাদের (বৃহত্তর ফরিদপুর) ক্ষমতা দখল করেন এবং সেখানে তার প্রথম মুদ্রা ছাপানো হয়।


0 Comments